বিশ্বের প্রথম প্রাইভেট স্পেসওয়াকে অংশ নিয়ে অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন স্পেসএক্স (SpaceX) পরিচালিত পোলারিস ডন মিশনের বিলিয়নেয়ার নভোচারী ও তার সহচারীরা।
পোলারিস ডনের চারজন ক্রূ। বাম থেকে ডানে: আনা মেনন, সারাহ গিলিস, স্কট পোটিট এবং জ্যারেড আইজ্যাকম্যান
মার্কিন ধনকুবের জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের অর্থায়নে পরিচালিত এ মিশনের সমাপ্তি ঘটে ১৫ সেপ্টেম্বর, যেখানে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১ টা ৩৭ মিনিটে মেক্সিকো উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত ফ্লোরিডার
ড্রাই টরুগাস দ্বীপে তারা অবতরণ করেন।
এ মিশনে অংশ নিয়েছিলেন চারজন অসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে ছিলেন স্পেসএক্স’র প্রকৌশলী অ্যানা মেনন ও সারা জিলিস। মঙ্গলবার স্পেসএক্স’র ফ্যালকন ৯ রকেটে করে মিশনটির নভোচারীরা
মহাকাশ যাত্রা শুরু করেন, যেখানে তারা পৃথিবীর কক্ষপথে পাঁচ দিন সময় কাটান।
SpaceX এর ভিডিও থেকে নেওয়া এই ছবিটি ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, বৃহস্পতিবার ক্যাপসুলের ভিতরে প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের নেতৃত্বে প্রথম ব্যক্তিগত স্পেসওয়াকের ক্রূরা
“আমাদের মিশন কমপ্লিট,” ক্যাপসুলটি
পানিতে অবতরণ করার আগে বলেন আইজ্যাকম্যান।
পৃথিবীর কক্ষপথ পরিক্রমণের
সময় মিশনের কমান্ডার আইজ্যাকম্যান জায়গা করে নিয়েছেন স্পেসওয়াকারদের বিশেষ এক তালিকায়, যেখানে এ কৃতিত্ব অর্জন করা ২৬৪তম মানুষ ছিলেন তিনি। তবে, এ মিশনের আগ এ কৃতিত্ব দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন ডজনখানেক দেশের শুধু পেশাদার নভোচারীরা।
স্পেসএক্স’র পোলারিস ডন মিশনের স্পেসওয়াক’কে ‘অত্যন্ত ঝুঁকির মিশন’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়, যেখানে নভোচারীরা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭৪০ কিলোমিটার উচ্চতায় কক্ষপথ পরিক্রমণ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ও হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চেয়েও বেশি উচ্চতার।
১৬ বছর বয়সে আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানি ‘শিফট৪’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আইজ্যাকম্যান, যার বর্তমান বাজারমূল্য
প্রায় দুইশ কোটি ডলার।
এর আগে ২০২১ সালে নিজের প্রথম মহাকাশযাত্রা করেছিলেন তিনি, যেখানে তিনি মহাকাশে নিয়ে গিয়েছিলেন
এক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের ও ক্যান্সার
থেকে বেঁচে আসা একজনকে। ওই মিশনে অংশ নিয়ে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের
মেমফিস শহরে অবস্থিত সেইন্ট জুড চিল্ড্রেন্স
রিসার্চ হসপিটালের
জন্য লাখ লাখ ডলারের আর্থিক অনুদানও তুলেছিলেন তিনি। তবে, ওই মিশনের খরচ নিয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি আইজ্যাকম্যান।
সাম্প্রতিক পোলারিস মিশনের আর্থিক খরচের তথ্যও প্রকাশ করেননি তিনি।
স্পেসওয়াকের সময় করা এক লাইভ ফিডে তাকে বলতে শোনা যায়, “বাড়িতে ফিরে আসছি।”
এর আগে স্পেসওয়াকের
সময় তিনি বলেন, “নিচে, এই পৃথিবীর জন্য অনেক কাজই করা এখনও বাকি, কিন্তু এখান থেকে পৃথিবীটাকে
একেবারে নিখুঁতই দেখাচ্ছে।”
পোলারিস ডন মিশনের চার সদস্যই নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে স্পেসএক্স-এর নতুন ‘স্পেসওয়াকিং স্যুট’ পরেছিলেন। আর এ মিশনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল স্যুটগুলো
পরখ করে দেখা।



0 মন্তব্যসমূহ