Header Ads Widget

দেহ ঘড়ির নতুন নকশা আঁকলেন বিজ্ঞানীরা


আমাদের প্রাত্যাহিক জৈবিক কার্যাবলী যেমন ঘুমানো, ঘুম থেকে উঠা কিংবা খাদ্য গ্রহণ এগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর দিনের একটি নির্দিষ্টি সময়ে সাধিত হয় কিংবা সাধনের ক্ষুধা আমাদের জাগে। একটা জৈবিক ঘড়ির মত অনেকটা। কিন্তু এর পেছনে কাজ করছে কে? ডি এন এর কোন জিনই বা নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদের এই দেহঘডিটা? যদি জানা যেত তবে কি-ই বা না করতে পারতাম আমরা। ঘুম হয় না ঘুম হয় না বলে যে হায় হায় রব তার অন্তত একটা সমাধান মিলতো। এগিয়ে নিতে বা পিছিয়ে দিতে পারতাম আমাদের বিপাকীয় কাজের সময়টুকু।
হ্যাঁ মানুষের সামনে সেইরকমই একটা সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে অচিরেই। সম্প্রতি Salk Institute এর Biological Studies বিভাগের প্রফেসর Ronald M. Evans জিন নকাশায়ন ল্যাবে এইসব বিপাকীয় কাজের জন্য দায়ী দুটি কোষীয় সুইচের সন্ধান পান। এরা হল ডি এন এর দুটি জিন REV-ERBα and REV-ERBβ। সাধারণত হাসপাতালের নার্সরা স্বাভাবিক রুটিন অনুসারে না ঘুমানো বা না খাওয়ার ফলে অনিদ্রা,স্থূলতা কিংবা ডায়বেটিসের মত জটিল কিছু রোগে ভুগে থাকেন। এই জিনদ্বয়ের আবিষ্কার এইসব রোগের চিকিৎসায় এক নতু...ন দ্বারপ্রান্ত খুলে দিবে বলে গবেষকদের ধারণা।
স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এতদিন দুটি ঘড়ির কথা জানতেন। প্রধান ঘড়িটি থাকে মাথায় আর অন্যটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গে। প্রধান ঘড়িটি সাধারণত আলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যা চালু হলে অন্য ঘড়িটিও কাজ করতে আরম্ভ করে অর্থাৎ ক্ষুধা কিংবা ঘুম ইত্যাদির অনুভূতি জাগায়। পুরো ব্যাপারটি ঘটে এই দুটি BMAL1 এবং CLOCK জিনের সাহায্যে। এখানে BMAL1 জিনটি কাজ করে অনেকটা গাড়ির এক্সেলেটরের মত। তো নতুন আবিষ্কৃত REV-ERBα and REV-ERBβ এই জিনদ্বয়ের ভূমিকা কী? এরা ত্বরিত দেহ ঘড়িকে সামান্য ধীর করে পুরো ব্যবস্থার মাঝে একটি ভারসাম্য আনায়ন করে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
ইঁদুরের উপর এই জিনদ্বয়ের প্রভাব গবেষণা করতে গিয়ে তাঁরা টেমোক্সিফেন নামক এক প্রকার ইস্ট্রোজেনের সাহায্যে জিনদ্বয়ের কার্যকারীতা বন্ধ করে দেন। ফলে তাদের রক্তে চিনি ও চর্বির আধিক্য দেখা দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটি লক্ষ্য করা আয় তা হল যে সময় ইঁদুরগুলির বিশ্রাম নেয়ার কথা তারা তখন দৌড়াদৌড়ি আরম্ভ করে,পাল্টে যায় তাদের খাবার গ্রহণের সময়, এককথায় পুরো শৃঙ্খলে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা।
তো বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করছেন এই দুটি জিনের আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে ভবিষ্যতে মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে নিজের জৈব ঘড়ি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ